অনলাইনে পণ্য কিনে প্রতারণার শিকার হলে যা করবেন

ফেসবুকে বিভিন্ন পেজ বা গ্রুপের মাধ্যমে কেনাকাটা করাটা ইদানিং অনেক বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এবং অনেকেই ব্যক্তি উদ্যোগে বিভিন্ন পেজ ওপেন করে বা গ্রুপ ওপেন করে অনলাইনে ব্যবসা শুরু করেছেন। অনলাইনে জমজমাট বিজ্ঞাপন দেখে অনেক সাধারণ গ্রাহক পণ্য কিনে বিভিন্নভাবে প্রতারিত হচ্ছেন।

ফেসবুকে কেনাকাটা করতে হলে অন্যান্য পেজের সঙ্গে তুলনা করে ধারণা নেওয়া উচিত এবং ভালভাবে খোজ-খবর নিয়ে নিজের পর্যবেক্ষণ-ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে বিশ্বাসযোগ্য পেজগুলো থেকে বিভিন্ন পণ্যের অর্ডার করা উচিত। যেহেতু অনলাইনে কেনাকাটা ইদানিং অনেক জনপ্রিয় হয়ে উঠছে সেহেতু এই সুযোগে অনেক প্রতারক চক্র গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারনা করছে । প্রায়ই এমন হচ্ছে যে পণ্যের মূল্য সঠিকভাবে পরিশোধ করা হলেও সময়মতো পণ্য সরবরাহ করা হচ্ছে না এমনকি করলেও খুব নিম্নমানের পণ্য সরবরাহ করার ঘটনা প্রায়ই ঘটে আসছে।

কেউ যদি অনলাইনে পণ্য কিনে প্রতারিত হন বা প্রতারণার শিকার হন তাহলে তিনি দেশের প্রচলিত আইন অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহন করতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে যে প্রতিষ্ঠান প্রতারনা করেছে তার বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ চেয়ে দেওয়ানি আদালতে মামলা দায়ের করতে পারবেন এমনকি প্রতারণার অভিযোগে ফৌজদারি আদালতেও মামলা দায়ের করতে পারবেন। তাছাড়া ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরেও অভিযোগ দায়ের করতে পারবেন। সেক্ষেত্রে যদি অভিযোগ প্রমানিত হয় তাহলে ওই প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হবে। অভিযোগকারী সেই জরিমানার ২৫ শতাংশ অর্থ ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর থেকে ফেরত পাবেন।

দেওয়ানি বা ফৌজদারি আদালতে মামলা/মোকদ্দমা কিভাবে দায়ের করবেন জেনে নিনঃ অনলাইনে প্রতারণার সম্মুখীন হলে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পেজ বা গ্রুপ এবং কী ধরনের প্রতারণা করা হয়েছে তা সুনির্দিষ্টভাবে তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করতে হবে। পরবর্তীতে পণ্য কেনা বা হাতে পাওয়ার পর সেটার ক্যাশমেমো দিয়ে জেলা জজ আদালতে অথবা মুখ্য বিচারিক হাকিম সাহেবের আদালতে মামলা দায়ের করতে পারবেন। আদলতে অভিযোগ দায়েরের পর আদালত আপনার অভিযোগ যাচাই-বাচাই করবেন এবং অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানকে নোটিশ দিবেন। যদি আদালতে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয় তাহলে আদালত অর্থদণ্ড বা কারাদণ্ড দিতে পারেন অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানকে ।

ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তরে অভিযোগ দায়েরের পদ্ধতি ঃ

অনলাইনে পণ্য ক্রয় করার তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে সুনির্দিষ্টভাবে ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কাছে অভিযোগ দায়ের করতে হবে। অনলাইনে প্রতারিত হওয়ার পর গ্রাহকের ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তরে অভিযোগ দায়ের করাটা সবচাইতে কার্যকর পদক্ষেপ। সেক্ষেত্রে গ্রাহক ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কার্যালয়ে গিয়ে অথবা তাদের ওয়েবসাইটে দেওয়া ই-মেইলের মাধ্যমে অভিযোগ দায়ের করতে পারবেন। গ্রাহকের সেই অভিযোগের ভিত্তিতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর অনলাইন প্রতিষ্ঠান ও অভিযোগকারীর কাছে ডাক -রশিদের মাধ্যমে চিঠি পাঠাবেন। দুই পক্ষ থেকে শুনানি শেষে অধিদপ্তর ঘটনার সত্যতার প্রমাণ পেলে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা প্রদানের আদেশ দেবে। এ ক্ষেত্রে জরিমানা হিসেবে যে টাকা আদায় করা হবে তার ২৫ শতাংশ টাকা ক্ষতিগ্রস্ত ভোক্তাকে দেওয়া হবে।

যেসব সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে একজন গ্রাহককে ঃ

অনলাইনে কোনো পণ্য কেনার ক্ষেত্রে প্রথমেই একজন গ্রাহককে অনেক বেশি সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে কোনোভাবেই আকর্ষণীয় এবং লোভনীয় বিজ্ঞাপন বা অফার দেখে পণ্য কিনতে যাওয়া একদমই উচিত নয়। প্রথমেই প্রতিষ্ঠানের নাম-ঠিকানা এবং মালিকের নাম-ঠিকানা ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করে নিতে হবে। অনেকেই বর্তমানে ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করেন। ওয়েবসাইটে বা গ্রুপে ট্রেড লাইসেন্সের কপি আছে কি না তা দেখে নিতে হবে, যদি না থাকে তাহলে ট্রেড লাইসেন্স করা আছে কি না এবং থাকলে তার নিবন্ধন নম্বর কত তা জিজ্ঞেস করে জেনে নিতে হবে। বিকাশ নম্বরে মূল্য পরিশোধ করতে বলা হলে বিকাশ নম্বরটি অন্য একটি নম্বর থেকে ফোন করে যাচাই করে নিলে প্রতারিত হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।যদি কোনো কুরিয়ার সার্ভিস প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পণ্য দিতে বলা হয়ে থাকে তাহলে যেন নির্দিষ্টভাবে পণ্য সরবরাহ করা হয় এবং কেনার রসিদ দেওয়া হয় তা খেয়াল করে রাখতে হবে এবং আগেই ভালভাবে এই বেপারে কথা বলে নিতে হবে। পণ্য গ্রহন করার সময়ে ভালোভাবে বারবার পণ্যটি চেক করে নেওয়াই ভালো।

Leave a Reply