1. admin@adalatnews.com : Admin :
  2. juristcommunication@gmail.com : muradjc :
অর্থঋণ আদালতে মামলা করার প্রক্রিয়া গুলো কি? - আদালত নিউজ
মঙ্গলবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২২, ০৪:২৬ পূর্বাহ্ন

অর্থঋণ আদালতে মামলা করার প্রক্রিয়া গুলো কি?

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২১
  • ৩৬ Time View
অর্থঋণ আদালত
অর্থঋণ আদালত

আর্থিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রদত্ত অনাদায়ী ঋণ আদায়ের লক্ষ্যে অর্থ ঋণ আদালতে মামলা করা হয় । অর্থ ঋণ আদালত আইন-২০০৩-এর আওতায় প্রতি জেলায় এ আদালত প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। সরকার সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ করে যুগ্ম জেলা জজদের মধ্য থেকে অর্থ ঋণ আদালতের বিচারক নিয়োগ দিয়ে থাকেন। অর্থ ঋণ আদালত একটি দেওয়ানি আদালত এবং দেওয়ানি আদালতের সব ক্ষমতা ও এখতিয়ার এ আদালতের আছে। এ আদালতে করা মামলা ‘অর্থ ঋণ মামলা’ নামে পরিচিত। অর্থ ঋণ আদালত আইন-২০০৩-এর চতুর্থ পরিচ্ছেদে অর্থ ঋণ আদালতে মামলা দায়ের, আদালতের রীতি ও কার্যপদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে (ধারা ৬ থেকে ২০)


বিচার পদ্ধতি:



অর্থ ঋণ আদালত আইনের ধারা ৬-এ বলা হয়েছে, অর্থ ঋণ আদালতে দায়েরকৃত কোনো মামলার বিচার বা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে এই আইনের বিধানাবলির সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ না হওয়া সাপেক্ষে ১৯০৮ সালের দেওয়ানি কার্যবিধির সংশ্লিষ্ট বিধানাবলি প্রযোজ্য হবে।

এই আইনের ধারা ৬-এর উপধারা (২)-এ উল্লেখ করা হয়েছে, আরজি দাখিলের মাধ্যমে আর্থিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক আদালতে মামলা দায়ের করতে হবে। আরজির বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট দালিলিক প্রমাণাদির সমর্থনে আরজির সঙ্গে হলফনামা দাখিল করতে হবে। এ হলফনামা মৌলিক সাক্ষ্য হিসেবে গণ্য হবে। আরজিতে কী কী বিষয় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে তা ধারা ৮-এ উল্লেখ করা হয়েছে। আরজির সঙ্গে প্রয়োজনীয় কোর্ট ফি দিতে হবে। দাখিলকৃত আরজি যথাযথ হলে আদালতের নির্ধারিত রেজিস্টারে তা ক্রমঅনুসারে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।



আরজির বিষয়বস্তু :


আরজিতে অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে নিম্নবর্ণিত বিষয়গুলো উল্লেখ করতে হবে [ধারা ৮, উপধারা (১)]
ক. বাদীর নাম, ঠিকানা, কর্মস্থল ইত্যাদির বিবরণ;
খ. বিবাদীর নাম, ঠিকানা, কর্মস্থল, বাসস্থান ইত্যাদির বিবরণ;
গ. দাবি সম্পর্কিত সকল ঘটনা;
ঘ. মামলার কারণ উদ্ভবের ঘটনা, স্থান এবং তারিখ;
ঙ. কোর্ট ফি প্রদানের উদ্দেশ্যে মামলার তায়দাদ;
চ. আদালতের এখতিয়ার রয়েছে মর্মে বিবরণ এবং
ছ. প্রার্থিত প্রতিকার।

এ ছাড়াও ধারা ৮, উপধারা (২) (ক) মোতাবেক আরজিতে একটি তফসিলের বর্ণনা থাকবে, যাতে নিম্নবর্ণিত বিষয়াদি অন্তর্ভুক্ত থাকবে-
বিবাদীকে প্রদত্ত ঋণ বা বিনিয়োগকৃত টাকার পরিমাণ;
স্বাভাবিক সুদ বা মুনাফা বা ভাড়া হিসেবে আরোপিত টাকার পরিমাণ;
দণ্ড সুদ হিসেবে আরোপিত টাকার পরিমাণ;
অন্যান্য বিষয় বাবদ বিবাদীর ওপর আরোপিত টাকার পরিমাণ;
মামলা দায়েরের পূর্ব পর্যন্ত প্রণীত শেষ হিসাব মতে বিবাদী কর্তৃক বাদী আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে ঋণ বা পাওনা পরিশোধ বাবদ জমাদানকৃত টাকার পরিমাণ এবং
বাদী কর্তৃক ধার্য মোট টাকা এবং বিবাদী কর্তৃক পরিশোধিত মোট টাকার তুলনামূলক অবস্থান।

এ ছাড়া আরজির সঙ্গে অন্য একটি তফসিল দাখিল করতে হবে, যাতে যেসব স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বন্ধক বা জামানত রেখে বিবাদী কর্তৃক ঋণ নেওয়া হয়েছে তার এবং সংশ্লিষ্ট বন্ধকি বা জামানতি দলিলের বিস্তারিত বিবরণ এবং আর্থিক মূল্যায়ন দেখাতে হবে [ধারা ৮, উপধারা ২(খ)]।

আইনের ধারা ৮-এর উপধারা (৩)-এ বলা হয়েছে, বাদী তাঁর দাবির সমর্থনে সাক্ষ্য হিসেবে কোনো দলিলের কথা উল্লেখ করলে আরজির সঙ্গে ওই দলিল বা তার সত্যায়িত নকল বা ফটোকপি ফিরিস্তিসহকারে দাখিল করতে হবে।
বাদী তাঁর দাবির সমর্থনে সাক্ষ্য হিসেবে দখলে নেই এমন কোনো দলিলের ওপর নির্ভর করলে, ওই দলিল কার কাছে আছে তা উল্লেখ করে ওই দলিলের একটি তালিকা আরজির সঙ্গে দাখিল করবেন [ধারা ৮, উপধারা (৪)]।
আর্থিক প্রতিষ্ঠান মামলা করার সময় মোট যত সংখ্যক বিবাদী আরজি ও কাগজপত্রাদির তত সংখ্যক অনুলিপি আদালতে দাখিল করবেন।



জামানত বিক্রি :


ঋণের জামানত হিসেবে গৃহীত লিয়েন অথবা প্লেজকৃত সম্পত্তি বিক্রি করে এবং বিক্রয়লব্ধ অর্থ ঋণ পরিশোধ বাবদ ঋণ হিসেবে সমন্বয় করে মামলা দায়ের করতে হবে। একইভাবে ঋণের জামানত হিসেবে গৃহীত দায়বদ্ধ (হাইপোথিকেটেড) অস্থাবর সম্পত্তি অথবা বন্ধককৃত (মর্টগেজ) স্থাবর সম্পত্তি যা বিক্রির ক্ষমতা আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে প্রদান করা হয়েছে তা বিক্রি না করে এবং বিক্রয়লব্ধ অর্থ পরিশোধ বাবদ সমন্বয় না করে অথবা বিক্রির চেষ্টা করে ব্যর্থ না হয়ে মামলা দায়ের করা যাবে না। [ ধারা ১২, উপধারা (৩)]।



বন্ধকদাতা বা গ্যারান্টার:


এ আইনের ধারা ৬-এর উপধারা (৫)-এ বলা হয়েছে, মূল ঋণগ্রহীতার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার সময় তৃতীয় পক্ষ বন্ধকদাতা বা তৃতীয় পক্ষ গ্যারান্টারকে বিবাদী পক্ষ করতে হবে এবং আদালত কর্তৃক প্রদত্ত রায়, আদেশ বা ডিক্রি সব বিবাদীর বিরুদ্ধে যৌথ ও পৃথকভাবে কার্যকর হবে।


সমন জারি :


বাদী আরজির সঙ্গে সমন জারির জন্য সমুদয় তলবনামা আদালতে দাখিল করবেন। আদালত অবিলম্বে জারিকারক কর্তৃক এবং প্রাপ্তি স্বীকারসহ রেজিস্ট্রিকৃত ডাকযোগে সমন জারির ব্যবস্থা করবেন। যদি সমন জারির ১৫ দিনের মধ্যে জারি হয়ে ফেরত না আসে অথবা তার আগে বিনা জারিতে ফেরত আসে, তবে আদালত ন্যায়বিচারের স্বার্থে প্রয়োজনীয় মনে করলে পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে বাদীর খরচায় যেকোনো একটি বহুল প্রচারিত বাংলা জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় এবং একটি স্থানীয় পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রকাশের মাধ্যমে সমন জারি করাবেন:
জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রকাশের মাধ্যমে সমন জারির আগাম ব্যবস্থা হিসেবে বাদী আরজি দাখিলের সময় আদালতে আরজির সঙ্গে একটি নমুনা বিজ্ঞাপন দাখিল করবেন। এ আইনের বিধান অনুযায়ী করণীয় বিবেচিত হলে আদালত বিজ্ঞাপনটি সংশোধন বা পরিবর্তন করে জারির ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।



লিখিত জবাব:


আদালত কর্তৃক জারিকৃত সমনে নির্ধারিত তারিখে বিবাদী আদালতে হাজির হয়ে লিখিত জবাব দাখিল করবেন। বাদীর দাবি সম্পর্কে বক্তব্য থাকলে বিবাদী তাঁর জবাবে তা উপস্থাপন করবেন [ধারা ৯, উপধারা (১)] । লিখিত জবাবের সঙ্গে বিবাদী কর্তৃক একটি হলফনামা সংযুক্ত করতে হবে। লিখিত জবাবের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট দালিলিক প্রমাণাদির সমর্থনে এ হলফনামা সম্পাদিত হবে। লিখিত জবাব মামলার নথিতে শামিল হবে [ধারা ৬, উপধারা (৩)]।



জবাব দাখিলের সময়সীমা:


অর্থ ঋণ আদালত বিবাদী উপস্থিত হওয়ার ৪০ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর বিবাদী কর্তৃক দাখিলকৃত কোনো লিখিত জবাব গ্রহণ করবে না। এ ক্ষেত্রে আদালত একতরফা সূত্রে মামলা নিষ্পত্তি করবেন [ধারা ১০, উপধারা (১)]। তবে নির্ধারিত খরচ প্রদানের শর্তে আদালত উপরোক্ত সময়সীমা আরো সর্বোচ্চ ২০ দিন বাড়াতে পারে।



দাবি আরোপের সীমাবদ্ধতা :


এ আইনের অধীনে মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান কোনো ঋণগ্রহীতাকে প্রদত্ত আসল ঋণের ওপর দায় এমনভাবে আরোপ করে আদালতে মামলা দায়ের করবে না যাতে আদালতে উত্থাপিত সমুদয় দাবি আসল ঋণ অপেক্ষা ২০০ শতাংশ (১০০ + ২০০ = ৩০০ টাকা)-এর বেশি হয়। আইনের এ ধারায় স্পষ্ট উল্লেখ আছে যে আসল ঋণ অপেক্ষা ২০০ শতাংশের বেশি দাবি আদালত কর্তৃক গ্রহণযোগ্য হবে না।



মামলা দায়ের সংক্রান্ত বিশেষ বিধান:


এ আইনের ধারা ৪৬-এর উপধারা (১)-এ বলা হয়েছে, কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান সম্পাদিত চুক্তির শর্ত মোতাবেক ঋণগ্রহীতার কাছ থেকে ঋণ পরিশোধসূচি অনুযায়ী ঋণ পরিশোধ শুরু হওয়ার পরবর্তী প্রথম এক বছরে প্রাপ্য অর্থের কমপক্ষে ১০ শতাংশ অথবা প্রথম দুই বছরে প্রাপ্য অর্থের কমপক্ষে ১৫ শতাংশ অথবা প্রথম তিন বছরে প্রাপ্য অর্থের কমপক্ষে ২৫ শতাংশ আদায় না হলে এর পরবর্তী এক বছরের মধ্যে আদালতে মামলা দায়ের করবে। তবে ঋণ পরিশোধসূচি অনুযায়ী ঋণ পরিশোধের মেয়াদ তিন বছরের কম হলে ওই মেয়াদের মধ্যে আদায়ের পরিমাণ ২০ শতাংশের কম হলে সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠান পরবর্তী এক বছরের মধ্যে আদালতে মামলা দায়ের করবে [ধারা ৪৬, উপধারা (৩)]।
উলি্লখিত মেয়াদ শেষ হওয়ার পর কোনো মামলা দায়ের করা হলে আদালত বিষয়টি সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীকে লিখিতভাবে অবহিত করবেন। আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কোনো কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার কারণে উপরোক্ত মেয়াদের মধ্যে ওই মামলা দায়ের করা না হলে দায়ী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ গৃহীত ব্যবস্থা সম্পর্কে সরকার ও আদালতকে অবহিত করবে [ধারা ৪৬, উপধারা (৫)]।



মামলা নিষ্পত্তির সময়সীমা :


এ আইনের ধারা-১৭-এর উপধারা (১)-এ বলা হয়েছে, সমন জারি সত্ত্বেও বিবাদী হাজির না হলে, সমন জারির তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে দাখিলি মামলা নিষ্পত্তি করতে হবে। পক্ষান্তরে বিবাদী হাজির হয়ে লিখিত জবাব দাখিল করলে, জবাব দাখিলের তারিখ থেকে সর্বোচ্চ ৯০ দিনের মধ্যে মামলা নিষ্পন্ন করতে হবে। তবে ৯০ দিনের নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি করতে অসমর্থ হলে, উপযুক্ত কারণ লিপিবদ্ধ করে, আদালত ওই সময়সীমা আরো ৩০ দিন বাড়াতে পারবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

More News Of This Category

ক্যাটাগরি

© All rights reserved © 2022 AdalatNews

Theme Customized BY LatestNews