জন্ম নিবন্ধন সংশোধন

একটু শিশুর জন্ম নেওয়ার পর থেকে যে সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে থাকে তার মধ্যে অন্যতম স্বাভাবিক অধিকার হলো জন্ম নিবন্ধনের অধিকার। একজন নাগরিক ও বিভিন্ন সুবিধা পাওয়ার জন্য এই জন্ম সনদের ব্যবহার অপরিহার্য। তবে জন্ম সনদ করার সময় সাধারণত আমাদের বিভিন্ন ধরনের ভুল হয়ে থাকে। এই ভুল সংশোধনের জন্য বেশ কিছু পদ্ধতি অবলম্বন করতে হয় তা নিম্মে  আলোছনা করা হলো ।

জন্ম নিবন্ধন সংশোধন ২০২১

জন্ম নিবন্ধন নেই এমন মানুষের সংখ্যা দেখা প্রায় অসম্ভব । বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় যে আমরা জন্ম নিবন্ধন সাথে এক ব্যক্তির সকল তথ্য মিল পাওয়া যায় না যেমন তার নামের যে বানান রয়েছে অথবা তার সার্টিফিকেটের সাথে যে জন্মতারিখ রয়েছে তার সঠিক মিল পাওয়া যায় না । জাতীয় পরিচয় পত্র পাওয়ার পূর্বে আমাদের প্রতিটি ক্ষেত্রে জন্ম নিবন্ধন সনদ প্রতি গুরুত্বপূর্ণ যার কারণে আমাদের জন্ম নিবন্ধন এর সকল তথ্য নির্ভুল হওয়া প্রয়োজন। চলুন জেনে নেই কিভাবে জন্ম নিবন্ধন সংশোধন করবেন তার বিস্তারিত সকল তথ্য।

জন্ম নিবন্ধন সংশোধন অনলাইন ২০২১

বর্তমান সময়ে সকল কিছুর প্রায় এখন অনলাইনের মাধ্যমে সম্পাদিত হয়েছিল চলেছে। তাই যে সকল ব্যক্তির জন্ম নিবন্ধনের ভুল রয়েছে তাদের জন্য সুখবর হলো গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার বর্তমানে সরাসরি অনলাইনে আপনার জন্ম নিবন্ধন এর বিভিন্ন সংশোধনের জন্য একটি অনলাইন পোর্টাল চালু করেছে। এ অনলাইন পোর্টাল ব্যবহার করে আপনি খুব সহজেই ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যেই আপনি সঠিক জন্ম নিবন্ধন অনলাইন কপি সংশোধন করে তা নতুন এক কপি হাতে পেয়ে যাবেন। তবে এক্ষেত্রে আপনাকে বেশ কিছু কাগজ পাতি হাতের কাছে রাখা লাগবে যা আপনার প্রামাণিক দলিল হিসেবে উপস্থাপন করতে হবে।

১. আবেদনকারীর জন্ম নিবন্ধন (যা অনলাইনে নিবন্ধিত থাকতে হবে)।

২. পিতা ও মাতার জন্ম নিবন্ধন (যা অনলাইনে নিবন্ধিত থাকতে হবে) ।

৩. শিক্ষাগত যোগ্যতা সনদ/টিকা সনদ অথবা তথ্য প্রমাণের জন্য অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কোনো সনদ ।

অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন ভুল-ত্রুটি সংশোধন করার জন্য আপনাকে যা করতে হবে –

যদি আপনার মাতা/পিতার নাম সংশোধন করতে হয় তাহলে যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে সেগুলো :-

ক. যদি আপনার কাছে মাতা/পিতার জন্ম নিবন্ধনের নম্বরটি থাকে, তাহলে তাদের জন্ম নিবন্ধনের নম্বরটি দিয়ে জন্ম নিবন্ধন তথ্য সংশোধনের জন্য আবেদন করে তাদের নাম সংশোধন করতে হবে।

খ. দ্বিতীয় পর্যায়ে, যদি আপনি আপনার জন্ম নিবন্ধন করার সময় আপনার মাতা/পিতার জন্ম নিবন্ধন নম্বর প্রথমে দিয়ে থাকেন, তাহলে তাদের নাম সংশোধন করার পরে, আপনার জন্ম নিবন্ধন সনদ পুনর্মুদ্রিত করলে সেখানে মাতা/পিতার সংশোধিত নাম দেখা যাবে ।

গ. ৩য় পর্যায়ে যদি, আপনার জন্ম নিবন্ধন করার সময় আপনার মাতা/পিতার জন্ম নিবন্ধন নম্বর না দেন, তবে আপনি আপনার জন্ম নিবন্ধন নম্বরের সাথে মাতা/পিতার জন্ম নিবন্ধন নম্বর ম্যাপ তৈরি করতে হবে । মাতা/পিতার জন্ম নিবন্ধন নম্বর ম্যাপ করার পরে আপনার জন্ম নিবন্ধন সনদ পুনর্মুদ্রণ করলে, সেখানে আপনি মাতা/পিতার সংশোধিত নাম দেখতে পাবেন ।

ঘ. ৪র্থ পর্যায়ে যদি আপনার মাতা/পিতার জন্ম নিবন্ধন নম্বর না থাকে ।  এছাড়া ও আপনার জন্ম তারিখ ০১/০১/২০২১এর পূর্বে হয়ে থাকলে, তবে আপনার জন্ম নিবন্ধনের তথ্য সংশোধনের জন্য আবেদন করার সময় আপনার মাতা/পিতার নাম সংশোধন করতে পারবেন  । সেক্ষেত্রে আপনার মাতা/পিতা যদি মৃত হয় তাহলে তাদের মৃত্যুর কোন প্রমাণপত্র দাখিল করতে হবে না ।

ঙ. ৫ ম পর্যায়ে, যদি আপনার মাতা/পিতার জন্ম নিবন্ধন নম্বর না থাকলে এবং যদি আপনার মাতা/পিতা মৃত হয় এবং আপনার জন্ম তারিখ যদি ০১/০১/২০০১ এর পরে হয়, তাহলে আপনার জন্ম নিবন্ধন তথ্য সংশোধনের জন্য আবেদন করার সময় আপনার মাতা/পিতার নাম সংশোধন করতে পারবেন । তবে সেক্ষেত্রে কিন্তু আপনার পিতা/মাতার মৃত্যুর প্রমাণপত্র দাখিল করতে হবে ।

জন্ম তারিখ সংশোধনের ক্ষেত্রে আবেদন ফি-

জন্ম তারিখ সংশোধনের জন্য আপনাকে অবশ্যই অনলাইনে জন্মনিবন্ধন সংশোধনের জন্য আবেদন করতে হবে । আবেদন ফরম অনলাইনে PDF আকারে পাওয়া যাবে । অনলাইন থেকে আবেদন ফরমের PDF ফাইলটি ডাউনলোড করে আবেদন করতে পারবেন  ।

আপনার জন্ম তারিখ সংশোধনের ক্ষেত্রে গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী আপনাকে আবেদন ফি হিসেবে ১০০ টাকা প্রদান করতে হবে । আর বিদেশের  ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তির যদি জন্ম তারিখ সংশোধন করতে চান তাহলে তাকে অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের জন্য আবেদন করতে হবে এবং আবেদন ফি হিসেবে ২ মার্কিন ডলার খরচ করতে হবে ।

আপনার জন্ম তারিখ ব্যতীত ব্যক্তির নাম, মাতার নাম, পিতার নাম এবং ঠিকানা ইত্যাদি অন্যান্য তথ্য সংশোধনের ক্ষেত্রে আবেদন ফি ।

জন্ম তারিখ ব্যতীত নাম,  মাতার নাম,  পিতার নাম ঠিকানা ইত্যাদি অন্যান্য তথ্য ভুল আসলে ভয়ের কোনো কারন নেই । কারো নাম,  ঠিকানা বা কোনো তথ্য ভুল হলে তা সংশোধনের জন্য অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের জন্য আপনাকে আবেদন করতে হবে ।

সেক্ষেত্রে অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের জন্য আবেদন ফরমটি  PDF ফাইল আকারে পাওয়া যাবে। ফাইলটি ডাউনলোড করে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে। সংশোধনের জন্য গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী আপনাকে আবেদন ফি হিসেবে ৫০ টাকা প্রদান করতে হবে ।

দেশের বাইরে বিদেশের ক্ষেত্রে ও ঠিক একই রকম ভাবে জন্ম তারিখ ব্যতীত নাম, মাতার নাম,  পিতার নাম, ঠিকানা ইত্যাদি অন্যান্য তথ্য সংশোধনের জন্য অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের জন্য আবেদন করতে হবে। এজন্য প্রথমে আবেদন ফরমের PDF ডাউনলোড করে আবেদন করতে হবে । সংশোধনের আবেদন ফরমের ফি হিসেবে ঐ ব্যক্তিকে ১ মার্কিন ডলার প্রদান করতে হবে ।

বাংলা ও ইংরেজী উভয় ভাষার ক্ষেত্রে মূল সনদ বা তথ্য সংশোদনের পর সনদের কপি সরবরাহঃ

জন্ম নিবন্ধনে জন্ম তারিখ, ব্যক্তির নাম,  পিতা-মাতার নাম, ঠিকানা ইত্যাদি অন্যান্য তথ্য সংশোধনের জন্য অনলাইনে আবেদনের নির্দিষ্ট সময়ের পরে সনদের কপি সরবরাহ করতে হবে। সেক্ষেত্রে আপনি বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষাতেই জন্ম নিবন্ধন সংশোধন করতে পারবেন।

সনদের কপি সরবরাহ করার জন্য অনলাইনে সনদের সংশোধন যাচাই করে নিতে পারেন ।

জন্ম নিবন্ধন সনদ সংশোধন সফল হয়ে গেলে সনদের কপি সরবরাহের জন্য আপনি নিকটস্হ পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদে যোগাযোগ করে সংশোধনকৃত সনদের কপি সরবরাহ করবেন । প্রয়োজনে আপনি স্হানীয় নির্বাচন অফিসে যোগাযোগ করেও জন্ম নিবন্ধন সংশোধিত সনদ পাওয়া যাবে । আর সেক্ষেত্রে গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী এক্ষেত্রে কোনো ফি প্রদান ছাড়াই আপনি সনদ সংগ্রহ করতে পারবেন ।

আর এই সেবাটি আপনি গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নীতিমালা অনুসারে আপনি ফ্রি তে নিতে পারবেন । তাই কোনো প্রতিষ্ঠানে সনদ সরবরাহের নামে কোনো ফি প্রদান করতে বললে প্রতারিত হবেন না, আপনার সনদ সংগ্রহ করুন ।

কিভাবে জন্ম নিবন্ধন দেখবেনঃ

জন্ম নিবন্ধন সনদ অনলাইন থেকে ডাউনলোড করার পাশাপাশি আপনি আপনার জন্ম নিবন্ধন দেখারও ব্যবস্থা রয়েছে। Online জন্ম নিবন্ধন যাচাইয়ের পদ্ধতি খুব সহজ।

 অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন সনদ দেখার জন্য আপনাকে প্রথমে  http://bdris.gov.bd/br/correction সাইটে প্রবেশ করতে হবে ।

তারপর প্রথম ফাঁকা ঘরটিতে যার জন্ম নিবন্ধন যাচাই করতে চাচ্ছেন তার ১৭ ডিজিটের জন্ম নিবন্ধন নাম্বার দিয়ে প্রবেশ করাতে হবে ।

আর দ্বিতীয় যে ঘরটি আছে ওটাতে জন্ম তারিখ নির্ভুলভাবে প্রবেশ করাতে হবে । জন্ম তারিখ বসানোর ক্ষেত্রে এই বিষয়টি লক্ষ্য রাখতে হবে যে প্রথম ৪ টি সংখ্যা হবে জন্মসাল, পরের দুইটি সংখ্যা হবে মাসের সংখ্যার ক্রম এবং শেষের দুইটি সংখ্যা হবে জন্ম তারিখ । এই ক্রমটি ভুল করলে কোনোভাবেই আপনি জন্ম নিবন্ধন সনদ যাচাই করতে পারবেন না ।

যদি সকল তথ্য সঠিকভাবে বসানো হয়ে থাকে তাহলে জন্ম সনদের সকল তথ্য সংবলিত একটি পৃষ্ঠা আসবে।  সেই তথ্যগুলোই মূলত যাচাইকৃত তথ্য ।

আর যদি Matching Birth Record Not Pound লেখা দেখতে পান তাহলে বুঝতে হবে যে জন্ম তারিখ বা জন্ম নিবন্ধন নম্বর এর মধ্যে কোনো ভুল দিয়েছেন । এভাবে আপনি আপনার বা আপনার ফ্যামিলি মেম্বারের জন্ম নিবন্ধন যাচাই করতে পারবেন। নিম্নের সাইড টি Brows করে জন্ম নিবন্ধন সম্পর্কে যে কোন তথ্য জানতে পারবেন।

নিম্নে প্রয়োজনীয় বিষয় গুলোর  লিংক দেওয়া হলো :-

ধন্যবাদান্তে,

জুরিস্ট কমিউনিকেশন ল ফার্ম

মোবাইলঃ 01886012863

ইমেইলঃ juristcommunication@gmail.com

Leave a Reply