আদালতের অন্তর্নিহিত ক্ষমতার অর্থ, অন্তর্নিহিত বলতে এমন কিছুকে বুঝানো যেটা লুপ্ত বা সরাসরি ব্যক্ত করা হয়নি । অন্তর্নিহিত ক্ষমতা হলো এমন ক্ষমতা যেটা সকল আদালতের আছে । এই ক্ষমতা কোন আইন থেকে উৎপত্তি হয়নি বরং ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে এবং আদালতের বিচারিক কার্যক্রম সঠিকভাবে করতে আদালত তার প্রতিষ্ঠার সময় এই ক্ষমতা সহজাতভাবে লাভ করে ।
এই ক্ষমতা দেওয়ানী কার্যবিধির অধীন আদালতকে প্রদত্ত অন্যান্য ক্ষমতার পরিপূরক এবং আদালত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বা মােকদ্দমার কার্যক্রমের অপব্যবহার রোধ করতে স্বাধীনভাবে এই ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে। দেওয়ানী কার্যবিধির বিধি বিধানসমূহ স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। কারণ ভবিষ্যতে কোন মোকাদ্দমায় সম্ভাব্য কোন ধরণের পরিস্থিতির উদ্ভব হতে পারে সেই সকল পরিস্থিতি আগে থেকে অনুমান করা আইন প্রণেতাদের পক্ষে সম্ভব না । এই সকল অপ্রত্যাশী পরিস্থিতিতে দেওয়ানী কার্যবিধির বিধান দ্বারা ন্যায় বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব নাও হতে পারে। দেওয়ানী কার্যবিধির অধীন এই সকল অপ্রত্যাশীত পরিস্থিতি সম্পর্কে ব্যক্ত কোন বিধি বিধান না থাকার পরও আদালত তার সহজাত ক্ষমতা প্রয়োগ করে এই সকল পরিস্থিতিতে ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে পারে ।
অন্তর্নিহিত ক্ষমতা আদালতের উপর অর্পণ করা হয় নি। এটা হলো এমন ক্ষমতা যেটা পক্ষদ্বয়ের মাধ্যে বিচার করার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আদালত সহজাত বা জন্মগতভাবে পেয়েছে। ন্যায় বিচারের স্বার্থে আদালতের অন্তর্নিহিত ক্ষমতা থাকা প্রয়োজন । আবু সামা বনাম আবু সায়েদ মামলায় বলা হয়েছে যেখানে সংক্ষুদ্ধ ব্যক্তির জন্য অন্য কোন প্রতিকার নেই সেখানে ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে অন্তর্নিহিত ক্ষমতা আদালতের হাতকে শক্তিশালী করেছে । অন্তর্নিহিত ক্ষমতা প্রয়োগ করবে না যতক্ষণ পর্যন্ত না সন্তুষ্ট হয় যে ন্যায় বিচারের স্বার্থে এটা প্রয়োজন ।
দেওয়ানী কার্যবিধির ১৫১ ধারায় বলা হয়েছে,
ন্যায় বিচারের স্বার্থে এবং আদালতের কার্যপ্রণালীর অপব্যবহার রোধ করতে প্রয়োজনীয় আদেশ প্রদানে এই কার্যবিধির কোন কিছুই আদালতের সহজাত ক্ষমতা সীমাবদ্ধ করেছে বা অন্যভাবে প্রভাবিত করেছে বলে গণ্য হবেনা।
অথাৎ দুইটি উদ্দেশ্যে আদালত তার সহজাত ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে;
ক. ন্যায় বিচারের স্বার্থে এবং
খ. আদালতের কার্যপ্রণালীর অপব্যবহার রোধ করতে
নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো ।
দেওয়ানী কার্যবিধিতে আদালতকে সহজাত ক্ষমতা দেওয়ার প্রাথমিক হলো ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আদেশ প্রদান করা।
এই মামলায় বলা হয়েছে ন্যায় বিচারের স্বার্থে প্রয়োজনীয় আদেশ দেওয়ার জন্য দেওয়ানী কার্যবিধির ১৫১ ধারায় আদালতের সহজাত ক্ষমতার সংরক্ষণ করা হয়েছে । এটা উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, দেওয়ানী কার্যবিধির বিধানসমূহ বলতে সাধারণত ন্যায় বিচার প্রদান করা বুঝায় কিন্তু উক্ত বিধানসমূহের প্রকৃতি এমন যে অনেক ক্ষেত্রে সকল সম্ভাব্য পরিস্থিতি ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে যথেষ্ট না । ফলে প্রত্যেক আদালতের অন্তর্নিহিত ক্ষমতা আছে যেকোন আদেশ প্রদান করা যা ন্যায় বিচারের জন্য আদালত প্রয়োজনীয় বিবেচনা করে।
ন্যায় বিচারের স্বার্থে আদালত যে সকল ক্ষেত্রে তার অন্তর্নিহিত ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে তা নিচে আলোচনা করা হলো :
দেওয়ানী কার্যবিধির ১৫২ ধারায় আদালতকে তার রায়, ডিক্রী বা আদেশের করণিক বা গাণিতিক ভুল সংশোধনের এখতিয়ার দিয়েছে । তবে এই ১৫১ ধারার বিধান ছাড়াও আদালত তার অন্তর্নিহিত ক্ষমতা প্রয়োগ করে নিজের আদেশ বাতিল করতে পারে এবং ভুল সংশোধন করতে পারে।
এই মোকাদ্দমায় বলা হয়েছে, দেওয়ানী কার্যবিধির ১৫১ ধারায়। ঘটনার ভুল ধারণাবশত প্রদত্ত কোন আদেশ বাতিল করার সহজাত ক্ষমতা আছে যখন সত্য ঘটনা প্রকাশিত হয় এবং ১৫১ ধারায় আদালতের আরও সহজাত ক্ষমতা আছে আদালতকে ভুলভাবে পরিচালিত করে বা প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে প্রাপ্ত কোন আদেশ বাতিল করার।
স সকল ক্ষেত্রে ৩৯ নং আদেশ অনুযায়ী অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করা যায়। না সেই সকল ক্ষেত্রে আদালত ন্যায় বিচারের স্বার্থে প্রয়োজন মনে করলে সহজাত ক্ষমতাপ্রয়োগ করে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করতে পারে ।
দেওয়ানী কার্যবিধির ৪১ নং আদেশের ২৩ বা ২৫ বিধির অধীন যে সকল ক্ষেত্রে কোন মোকাদ্দমা পুন:বিচারে ফেরত দেওয়া যায় না সেই সকল ক্ষেত্রে আদালত তার সহজাত ক্ষমতা প্রয়োগ করে মোকাদ্দমা ফেরত পাঠাতে পারে । উপযুক্ত ক্ষেত্রে আপীল আদালত তার অন্তর্নিহিত ক্ষমতা প্রয়োগ করে আরজি সংশোধন এবং কোর্ট ফি পরিশোধ করার জন্যমোকাদ্দমা ফেরত পাঠাতে পারে ।
আদালত তার অন্তর্নিহিত ক্ষমতা প্রয়োগ করে কোন মোকাদ্দমার কার্যক্রম স্থগিত করতে পারে। আপীল চলমান থাকা অবস্থায় যে সকল ক্ষেত্রে কোন দেওয়ানী কার্যবিধির ১০ ধারার বিধানাবলী প্রযোজ্য হয় না সেই সকল ক্ষেত্রে ন্যায় বিচারের স্বার্থে মোদ্দমা স্থগিত করার আদেশ দিতে পারে।
মোকাদ্দমার কার্যধারার বহুত্ব এড়ানোর জন্য আদালত দুইটি মোকাদ্দমা বা আপীল একত্রে শুনানী করতে আদেশ দিতে পারে । ন্যায় বিচারের স্বার্থে একই পক্ষদ্বয়ের মধ্যে দুইটি মোকাদ্দমা একত্রে শুনানীর (Analogous hearing ) জন্য আদেশ দিতে পারে । একত্রে বিচারের জন্য মোকাদ্দমার পক্ষদ্বয় এবং বিচার্য বিষয় একই হতে হবে।
আদালত তার সহজাত ক্ষমতা প্রয়োগ করে সীমিত পরিসরে কোন ডিক্রী বা আদেশ কার্যকর বা স্থগিত করতে পারে। কিন্তু আপীল চলাকালীন সময়ে আদালত এই ক্ষমতা প্রয়োগ করার কোন এখতিয়ার নেই।
ধন্যবাদান্তে,
জুরিস্ট কমিউনিকেশন ল ফার্ম
মোবাইলঃ 01886012863
ইমেইলঃ juristcommunication@gmail.com